Feature Label 3

0
কমরেড আসাদ্দর আলী স্মৃতি পরিষদ,কমরেড আসাদ্দর আলী,আসাদ্দর আলী,কমরেড আসদ্দর আলী,আসদ্দর আলী,কমরেড আছদ্দর আলী,আছদ্দর আলী,সৈয়দ আকমল হোসেন,সৈয়দ আকমল,আকমল হোসেন,বিদ্রোহী সৈয়দ,ভাষা আন্দোলনে সিলেট,সিলেট ভাষা আন্দোলন,comrade assador ali,assador ali,asaddar ali,comrade asaddar ali,syed akmal,syed akmal hussain,


সৈয়দ আকমল হোসেনের নাম মনে হতেই একজন জন্মবিদ্রোহী মানুষের কথা মনে পড়ে। মনে হয় জন্মেই এ মানুষ যেন, কমরেড লেনিনের ভাষায় সমাজটাকে পা উপর দিকে এবং মাথা নিচু দিকে দিয়ে উল্টোবাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে গেছে। মনে হয় সমস্ত উলট-পালট করে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়েই তাঁর জন্ম। প্রয়াত কমরেড তারা মিয়া এবং আমি ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠনের কাজে বেরিয়েছি। কুলাউড়ামুখী হওয়ার সাথে সাথে তারা মিয়া বললেন, আকমল হোসেনকে নিশ্চয়ই কুলাউড়ায় পাব। আরও বললেন, সে মুসলিম লীগের দুর্দান্ত কর্মী ছিল। আমি মুসলিম লীগে ছিলাম না। মুসলিম লীগের যে কয়েকজন নেতা এবং কর্মীর সাথে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক তারাও কমিউনিস্ট মার্কা। খাঁটি মুসলিম লীগের দুর্দান্ত কর্মী সম্বন্ধে আমার খুব আগ্রহ থাকার কথা না। তারা মিয়ার কথায় বেশী উৎসাহ বোধ করলাম না।
কুলাউড়া পৌঁছে সৈয়দ আকমল হোসেনের সাথে দেখা হল। তাঁর সঙ্গে পাকিস্তান ডান পত্রিকার বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক মজিদ সাহেবও ছিলেন। এক যুবককে দেখিয়ে তারা মিয়া বললেন এই হচ্ছেন সৈয়দ সাহেব। তরুণ বয়সে মুখভরা চাপ দাঁড়ি, সরস সোজা দেহ যষ্টি। অশান্ত উদ্যত বাচন ভঙ্গী। কথাবার্তার মধ্য দিয়ে সমস্য মনটাই যেন উদ্দাম আবেগে বেরিয় আসছে। চলার ভঙ্গীতে কোন বাধা মানবো না ধরনের নাজরুলিক এক বিমুক্ত ছন্দ। দেখেই মনে হল একজন নতুন মানুষ দেখা হল। আমার মারাত্মক ত্র“টি প্রথম সাক্ষাতেই পরিচয় দূরে থাক্, হৃদ্যতা করা আরও দূরে থাক, সাধারণ কথাবার্তা বলতেও আড়ষ্টতা বোধ করি। কিন্তু সৈয়দ আকমল আমার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর হাতে পড়ে আমার আড়ষ্টতা বিপন্ন হয়ে পড়ল। প্রশ্নের পর প্রশ্নের বান ছুঁড়ে ছুঁড়ে আমাকে ঘর্মাক্ত, রক্তাক্ত করে তিনি যখন আবিষ্কার করলেন যে, আমি পাকিস্তান আন্দোলনের মত পূতঃ পবিত্র মহান কর্মে শরীক ছিলাম না, তিনি স্বস্তিই বোধ করলেন। বললেন, এই জন্যই এতদিন আপনার সাথে সাক্ষাত হয়নি। অর্থাৎ আমি সিলেট জেলার একজন জলজ্যান্ত মানুষ হয়েও সৈয়দ আকমলের সঙ্গে পরিচিত নই। এমন বিষ্ময়কর অবস্থাটা এতক্ষন তাঁর কাছে অসহনীয় ছিল। পরবর্তী সময়ে দেখেছি সৈয়দের অপরিচিত মানুষ এই জেলাতে সত্যিই বিরল ছিল।
আমরা অনেক সময় সভা সমিতিতে নীরবে নিভৃতে থেকে প্রায় অদেখা অজানা অবস্থায় যাওয়া আসা করতে পারতাম। কিন্তু সৈয়দ আকমলের উপস্থিতি যে কোন আসরে তাঁকে মনে রাখার মত করে সকল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন না করে পারতো না।
ছাত্র আন্দোলন, রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন, যুবলীগ সংগঠন, কৃষক শ্রমিকের সংগ্রাম, যুক্তফ্রন্টের কাজকর্ম সহ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগঠনে সৈয়দ আকমল হোসেনের সঙ্গে আমরা যারা কাজ করেছি তারা সবাই তাঁকে একটু সমীহ করে চলতাম। কাজ কর্মের ফাঁকে ত্র“টি বিচ্যুতি চোখে পড়লে ক্ষমাহীন আক্রমণ। প্রগতিশীল আন্দোলনে বৃহত্তর সিলেট জেলায় কুলাউড়া ও শমসেরনগরকে কেন্দ্র করে একটি বিরাট কর্মী বাহিনী গড়ে উঠেছিল। রাজা সাহেব, সালাম সাহেব, সৈয়দ আকমল, সৈয়দ ছয়ফুল হোসেন এবং মফিজ আলীই এই বাহিনীর সেনাপতি মন্ডলীর ভূমিকা পালন করতেন। মফিজ আলী বয়সে সকলের ছোট হলেও সাংগঠনিক কাজে বিশেষতঃ শ্রমিক কৃষক সংগঠনে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। রাজা সাহেব এবং সালাম সাহেবও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ছিলেন। সৈয়দ সাহেবের কাজ ছিল সর্বব্যাপী। তাঁকে ছেড়ে কোন কাজই যেন পূর্ণ হতনা। ডাঃ পবন, সৈয়দ বশির আলী, মোঃ আজম, তাহির মাষ্টার, শরীফ উল্লাহ ভাই, আবু কায়সার খান, সীতারাম বর্মন, রাধাকিষণ কৈরী, বেচু হরিমন, আজির উদ্দিন খান, আব্দুল মালিক, তাহির আলম, পংকুমিয়া, সুনীল লৌহ, আফজন, শিশির দে, ফৌরদৌস, স্বপন, ছাত্রনেতা শফকাতুল ওয়াহেদ, গজনফর আলী প্রমুখ কর্মীর বয়সের ব্যবধান যতই থাকুক, সৈয়দ আকমল যখন একসঙ্গে বসে আলাপ আলোচনা করতেন মনে হতো একটি বিরাট পরিবারের কয়েকজন ভাই যেন একত্রে বসেছেন। সৈয়দ সাহেব যেন সকলের বড় ভাই। ভাষা আন্দোলনের পর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কমিউনিস্টরা যুক্তফ্রন্ট গঠন করার কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। তখন কমিউনিস্টরা পার্টির নামে প্রকাশ্যে একটি ছোট টিম রেখে আওয়ামীলীগগণতন্ত্রী দলের ভিতরে থেকে কাজ করার কৌশল গ্রহণ করেন। আমরা আওয়ামীলীগে এবং অন্য কয়েকজন গণতন্ত্রী দলে কাজ করতেন। সৈয়দ আকমল গণতন্ত্রী দলে। কিন্তু পার্টি কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর আমরা সকলে সুশৃংখলভাবেই পার্টির সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করি। যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পরে ৯২(ক) ধারা জারী করে প্রায় আড়াই হাজার রাজনৈতিককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। যুক্তফ্রন্ট ভেঙ্গে দু’ভাগ হয়। কমিউনিস্ট পার্টিরকে বেআইনী ঘোষনা করা হয়। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর মনিরউদ্দিন সাহেব এবং আমি এক সঙ্গে ধরা পড়ি। মনির উদ্দিন সাহেব গণতন্ত্রী দলের জেলা কমিটির সম্পাদক। মাহমুদ আলী সাহেব তখন লোকদের ডেকে নিয়ে পৃথকভাবে আলাপ আলোচনা করতেন। আকমল হোসেন তাঁর খুবই ঘনিষ্ট লোক ছিলেন। পার্টির পক্ষ থেকে আমাকে সৈয়দ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
সৈয়দ সাহেব প্রথমে পার্টির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে পার্টির লেজুর বৃত্তি ছাড়াই কাজ করা উচিত ছিল। পার্টির কৌশল সম্পর্কে তাঁকে ব্যাখ্যা করি। তিনি অবশেষে এই ব্যাখ্যা সন্তুষ্ট হন। অনেকের ধারণা ছিল সৈয়দ সাহেব কোন নিয়ম মানেন না। কিন্তু আমার মতে সৈয়দ সাহেব বিদ্রোহী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি বিশৃঙ্খল ছিলেন না। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, নিয়মনিষ্ঠ, রুচিবান ও ন্যায়পরায়ণ লোক ছিলেন। শ্রমিক কৃষক ছাত্র জনতার প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামের পুরোভাগে সৈয়দ আকমদ হোসেন ছিলেন। রাজাসাহেবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল খুবই মধুর। রাজা সাহেব তাঁর নিজের সঙ্গে সৈয়দ সাহেবের প্রথম সাক্ষাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রায়ই সরস ভাষায় বলতেন, একদিন তাঁর সম্মুখ দিয়ে কট কট আওয়জ তুলে দ্রুতগতিতে একজন লোক বেপরোয়াভাবে ‘হায়দার মঞ্জিলে’ প্রবেশ করেন। তাঁর ব্যতিক্রমর্ধী গতিবিধিতে রাজাসাহেবের মনে ঔৎসুক্যের সৃষ্টি হয়। ফেরার পথে তিনি আগন্তুককে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোথায় কার কাছে গিয়েছিলেন? উত্তরে আগন্তুক তার নিজস্ব বিশিষ্ট ভঙ্গিতে বলেন, “আমি হায়দার খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করে এলাম।” রাজা সাহেব অবাক বিষ্ময়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বললেন, আমি এই সর্বপ্রথম আমাদের বাড়ীতে আব্বা হুজুরের নাম উচ্চারণ করতে শুনলাম। এই বাড়িতে রেওয়াজই ছিল বড় হুজুর-ছোট হুজুর, বলে তছলিম করে এই বাড়ির পুরুষদের উল্লেখ করা।
পরবর্ত্তী সময়ে যতটি আন্দোলন হয় তার সঙ্গে সৈয়দ সাহেব কোন না কোন ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৫৬ সালে ফুলবাড়ী নামক স্থানে পৃথ্বিমপাশা কৃষি খামার সম্প্রসারনের জন্য কৃষকদের উচ্ছেদ শুরু হয়। হাতি দিয়ে কৃষকদের ঘরবাড়ি ভাংগার জন্য জমিদারের  বাহিনী অগ্রসর হতে থাকে। রাজা সাহেব, সৈয়দ আকমল, তারা মিয়া, সৈয়দ সাইফুল হোসেন প্রমুখ নেতার নেতৃত্বে কৃষক সমিতি প্রতিরোধ গড়ে তুলে। আন্দোলনের চাপে তৎকালীন সরকার জমিদারদের মাহফিজখানা বাজেয়াপ্ত করে এবং সেই স্থানে পুলিশ ক্যাম্প বসায় জমিদারী জুলুমের বিরুদ্ধে।
১৯৫৬ সালে রেলওয়ে ধর্মঘটকে উপলক্ষ করে সৈয়দ সাহেবকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৬৭ সালে বড়লেখার ধামাই চা বাগানের শ্রমিকরা ধর্মঘট করে। সিলেটের ৮৭টি চা বাগানের শ্রমিক এই ধর্মঘটে প্রতি সমর্থন জানায়। ধর্মঘট ১৪দিন চলে। কর্তৃপক্ষ ধর্মঘটের শ্রমিকদের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে। বাহির থেকে ধামাই এর শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সাহায্য বন্ধ করার উদ্দেশ্যে পুলিশ এবং ই, পি, আর সকল সড়ক পথ অবলোধ করে রাখে। তখন মফিজ আলী, আবু কায়সার খান, সুনীল লোহ, পংকু মিয়া প্রমুখ সহযোগে গঠিত কমিউনিস্ট পার্টির টিমই চা শ্রমিক আন্দোলনের দায়িত্বে ছিলেন। জেলা কেন্দ্র থেকেও পার্টি নেতারা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখতেন। রেলযোগে খাদ্য সরবরাহ করে ধামাই অবরোধের প্রতিবিধান চিন্তা করা হয়। ধামাইয়ে রেল ষ্টেশন ছিল না। রেল কর্মীদের উপর সৈয়দ সাহেবের বিরাট প্রভাব ছিল। তাঁর সাহায্যে ধামাইয়ের নিকট রেল থামানোর ব্যবস্থা করে খাদ্য দ্রব্য ফেলে দেয়া হত। সেখান থেকে মহিলা শ্রমিকগণ কাপড়ের আঁচলে করে চাল ডাল গোপন পথে বাগানে নিয়ে যেতেন।
১৯৭০ সালে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রের  (?) অপরাধে অন্যান্যদের সঙ্গে সৈয়দ সাহেব এবং আমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে সেই সময়ে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির কোন কোন নেতা আমার উপর খুব বিক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল (১) সোভিয়েত রাশিয়া সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ বলে আমি বিশ্বাস করতাম না। (২) আমি নির্বাচনের পক্ষে ছিলাম। (৩) আমি কমরেড চারু মজুমদারের লাইন সঠিক মনে করতাম না। (৪) তখন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্খাই প্রধান জাতীয় প্রবণতা ছিল বলে আমার ধারণা ছিল সৈয়দ আকমলও আমার প্রতি এই অভিযোগ বিরুপ ছিলেন। জেলে প্রথম আলাপেই তিনি অকপটে এ কথা স্বীকার করেন। তিনি মুখ কাটা বলেই সবাই জানতেন। আমাকে কিছু কাটা কাটা কথাও তিনি শুনান। তাঁর অভিযোগের উত্তরে আমি বলি আমার বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগগুলো সত্য। কিন্তু এতে আমার দোষ কোথায়? আমার বিশ্বাস বা ধারণার কথাতো আমি নির্দিষ্ট ফোরামের কাউকে বলিনি। দ্বীতিয়তঃ আমি পার্টির নিয়ম শৃংখলার বিরোধী কোন কাজ করেছি বলে পার্টি থেকে আমার বিরুদ্ধে কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ তো আনা হয় নাই। আমার কথায় বিশ্বাসগুলোর পক্ষে বিশেষ কোন যুক্তি না দেখিয়ে ১৯৬৯ সালের বাস্তব অবস্থা এখানেও বর্ণনা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। ষাট দশক থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা ‘মস্কো লাইন’ ও ‘চীনা লাইন’ এর পথ ধরে বিভক্ত হয়ে দুই বিপরীত ধারায় কাজ করেছেন। এই দশকের শেষ দিকে দুই ধারার অনুসারীদের বিশেষ করে কৃষক শ্রমিক ছাত্র বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের মন মানসিকতা বিরাজ করছিল।
১৯৬৯ সালে সমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক কর্মী নীরাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে গভীর উৎকন্ঠা নিয়ে আমরা সিলেট থেকে রওয়ানা হই। কিন্তু সমশেরনগর পোঁছেই দেখি এলাহী কান্ড। হাজার হাজার শ্রমিক কৃষক পাহাড় কামলা ও ছাত্র কর্মীদের সমাগমে শোভাযাত্রার শ্লোগনে সমশেরনগরে সেদিন সংগ্রামের জোয়ার ডেকেছিল। সৈয়দ আকমল তখন জেলা কৃষক সমিতির সম্পাদক। শ্রমিক নেতা সৈয়দ আকমল হোসেনের নেতৃত্বে শ্রমিক কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে দূর্বার দুর্ণিবার জনসংগ্রামের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সেদিন সমশের নগরে তৈরী হয়েছিল। তার সঙ্গে জেলার আন্দোলন সংগ্রামের যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন ছিল। চীন সোভিয়েত বিরোধের দিকে না তাকিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের সকল কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যদি সকল শ্রেণী সংগ্রামের স্রোতধারার গতিমুখ সার্বিক মুক্তির দিকে প্রবাহিত করতে পারতেন তখন সকল গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাকামী শক্তিকে সংগঠিত করা সম্ভ হতো। মাওলানা ভাসানী সহ জাতীয় নেতারা তখন কমিউনিস্টদের সঙ্গে দৃঢ় মৈত্রী স্থাপনকে পূন্যের কাজ মনে করতেন। সোভিয়েত রাশিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশ মুক্তি সংগ্রামের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানাত। আমার আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই সৈয়দ সাহেব বললেন, “আপনি আপনার কথা পার্টির কাছে লিখিত ভাবে জানান।” এই বলে নিজস্ব ভঙ্গিতে দ্রুতবেগে বেরিয়ে গিয়ে তিনি অন্যান্য কাজে লেগে গেলেন।॥জেলেও তাঁর এক মুহুর্ত অবসর থাকার জো ছিল না। জেলে ফল ফুলের বাগান ও সব্জী বাগানের কাজ কর্ম ছাড়াও কয়েদীদের বিভিন্ন কাজ, দন্দ্ব বিরোধের সালিশী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে দেন দরবারে তাঁর দিন কাটত। সৈয়দ সাহেবের সাথে আমার আলোচনা অসমাপ্ত থাকলেও আমার প্রতি তাঁর মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছিল বলে আমার ধারনা। জেলেই একদিন আমার আলসার থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থা সংকটজনক হয়ে পড়ে। আমার এই অবস্থা দেখে সৈয়দ সাহেবের উৎকন্ঠিত চোখমুখের চেহারা আমি জীবনে ভুলবোনা। তাঁর চোখে কেউ কোনদিন জল দেখেছেন বলে আমি শুনিনি। কিন্তু সেদিনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তাঁর চোখমুখ যেন এক্ষুনি ফেটে পড়বে।

ই.ইউ শহীদুল ইসলাম শাহিন প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী সৈয়দ’ (১৯৯৪) থেকে

Post a comment

কমরেড আসাদ্দর আলী বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম।তিনি সারাজীবন মেহনতী মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবিস্মরণীয় অবদান ছিল।তিনি কমিনিষ্ট আন্দোলনের পথিকৃত এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।গণ মানুষের নেতা কমরেড আসাদ্দর আলীর স্বরনে একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।